রাউজানে ইফতারের পর যুবদলকর্মী আব্দুল মজিদকে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজানে ইফতারের পর বাজারের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল মজিদ (৫৫) নামে এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মজিদ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মুনাফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘটক এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার শেষ করে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অলিমিয়াহাট বাজারে একটি ফলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আব্দুল মজিদ। এ সময় তিন-চার জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্তের দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল মজিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
পূর্বগুজরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপ্ত দাশ রায় জানান, ইফতারের পর বাজারে কয়েকজনের সঙ্গে আব্দুল মজিদের তর্কাতর্কি হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ঘটক ছিলেন। একটি বিষয় নিয়ে গত দুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় একই ইস্যুতে পুনরায় তর্কাতর্কির জেরে তাকে গুলি করা হয়।
পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম পেয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
নিহতের পরিবারের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিহতের ভাই মো. আনোয়ার জানান, আব্দুল মজিদ সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়া ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় ফিরে অলিমিয়াহাট বাজারের ইজারা নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আব্দুল মজিদ একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
