নোয়াখালীতে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরে হামলা, ১০ জন আহত
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে বুধবার বেলা ১২টায় এই হামলা চালানো হয়।
হামলার ঘটনা ও সংঘর্ষের বিবরণ
জানা গেছে, হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার জবাবে হান্নান মাসউদের সঙ্গে থাকা এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা দশটির বেশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ তার গাড়িবহর নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীরা এক হয়ে গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি করে ও হামলা চালায়। হামলার মুখে প্রথমে পিছু হটলেও পরে হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে এনসিপি কর্মীরা পুনরায় একত্র হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে একাধিকবার সংঘর্ষ হয় এবং ১০ জনের মতো আহত হয়।
পুলিশের ভূমিকা ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া
এ সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। জাতীয় যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ বলেন, 'পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের ওপর এভাবে হামলা করা হয়েছে, অথচ পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। প্রশাসনের এমন রহস্যময় ভূমিকা আমাদের অবাক করেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীর বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসব বিষয়েও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, 'হামলাকারী সন্ত্রাসী বেলাল মাঝিকে গ্রেফতার করা না পর্যন্ত আমি এখান থেকে অবস্থান ছাড়বো না। সে ২০১৮ সালেও সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল।' বর্তমানে তিনি প্রকল্প এলাকায় তার নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, 'আমাদের পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা বিষয়টি সম্পূর্ণ না জেনে কোনও মন্তব্য করবো না।' পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
এই হামলার ঘটনা নোয়াখালী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন।
