নতুন সরকারের অধীনে প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল শুরু
প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষায় বড় রদবদল শুরু

নতুন সরকারের অধীনে প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল শুরু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল চলছে, যা প্রশাসনে একটি বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সূচনা করেছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সচিব পদে শূন্যতা ও নিয়োগের প্রক্রিয়া

চুক্তিতে থাকা ৯ জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের নিয়োগ বাতিল এবং কয়েকজন সচিবকে সংযুক্ত করার ফলে বর্তমানে অন্তত ১৩টি সচিব ও সমপর্যায়ের পদ শূন্য হয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যায়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে, অন্যদিকে শ্রমসচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়াকে পিএসসির সচিব করা হয়েছে। এই পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে, যেখানে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি উঠছে।

পুলিশ বাহিনীতে নেতৃত্বের পরিবর্তন

প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীতেও পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গতকাল পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলী হোসেন ফকির, যিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত মহাপরিদেশক পদ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা মুখ্য বিবেচ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশের নেতৃত্বে পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়, তবে পেশাদারত্ব বজায় রাখা ও বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ আবদুর রকিবকে।

শিক্ষা প্রশাসনে নতুন সমীকরণ

পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে উচ্চশিক্ষা প্রশাসনেও, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন এবং নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মধ্যে বেশ কিছু পদে পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বহীন, যেমন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে মহাপরিচালকের পদ শূন্য এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডেও চেয়ারম্যান নেই। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে শিক্ষকেরা স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও যোগ্যতার উপর জোর দিচ্ছেন।

অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত প্রত্যাশা

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছিল, যেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পদায়নে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা রয়েছে যে, নিয়োগ ও বদলিতে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং দলীয়করণের অভিযোগ এড়ানো হবে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে প্রশাসন গুছিয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে, কিন্তু এবার যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা দেখেই পরিবর্তন হওয়া উচিত, যাতে কেউ বঞ্চিত না হন। এই প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করা এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।