ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ মিনার বাধা ও মারপিটের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও মারপিটের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কর্মী মো. আহাদ প্রথম মামলাটি দায়ের করেন। কয়েকঘন্টার মধ্যেই বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের কর্মচারী পাল্টা মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া উভয় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
আহাদের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সরাইল উপজেলার স্থানীয় শহীদ মিনারে প্রশাসনের সামনে রুমিন ফারহানা ফুল দিতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় তার কর্মী আহাদ মারপিটের শিকার হন এবং শ্রদ্ধা না জানিয়েই ফিরে আসতে বাধ্য হন। ভোটে জয়ী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরকারি আয়োজনে অংশ নিতে এসে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হন বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেনের কর্মচারীর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে আনোয়ার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও তার বাড়ির সামনে ১০০-১৫০ জনের একটি দল গালাগালি করে। প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়, শহীদ মিনারে শ্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটায়।
আসামী ও আইনি পদক্ষেপ
আহাদের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি'র সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আরও চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে। সোমবার আনোয়ার হোসেন জামিন লাভ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেনের কর্মচারীর মামলায় তামিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, ১৭ জনসহ একটি দল তার বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এই মামলায় রুমিন ফারহানার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ঘটনার পর রাতেই সড়ক অবরোধ করে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। গত দুইদিন ধরে তার পক্ষে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রবিবার আনোয়ার হোসেনের পক্ষেও মিছিল বের হয়েছে, যা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এই অভিজ্ঞতা স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
উভয় পক্ষের মামলা ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এই ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
