কক্সবাজারে বিএনপি সংসদ সদস্যের গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, উত্তেজনায় গাড়ি আটক
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম খালেদ বিন ওয়ালিদ, যিনি স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তেন। তিনি বদরখালী ইউনিয়নের প্রবাসী আমান উল্লাহর ছেলে ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল পাঁচটার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–২ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়িবহর বদরখালী এলাকা পার হওয়ার সময় বহরের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে শিশুটি গুরুতর আহত হন। পরে শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বদরখালী মাদ্রাসা গেট এলাকায় সড়কের মাঝখানে একটি ডাম্প ট্রাক দিয়ে সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেন। এ সময় সংসদ সদস্যকে বহনকারী গাড়িটি বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত চলে যায়। সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে আটকে পড়া গাড়িগুলো স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যান সংসদ সদস্য।
মায়ের মর্মান্তিক দৃশ্য ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
সন্ধ্যায় শিশুটির মায়ের আহাজারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে আছে মৃত ছোট্ট সন্তান। মা তাকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন, কখনো মুখে হাত বোলাচ্ছেন, কখনো গায়ে। তিনি বারবার ডেকে বলছেন, ‘উঠ বাবা…উঠ…।’ এই মর্মান্তিক দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার–২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের গাড়িবহরের একটি গাড়ির চাপায় শিশুটি মারা গেছে। ইতিমধ্যে চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আমি এখনো বদরখালী আছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে।’
সংসদ সদস্যের সফর ও ঘটনার প্রেক্ষাপট
আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ আজ কুতুবদিয়া সফরে যান। সফর শেষে বিকেলে সড়কপথে তিনি পেকুয়া থেকে চকরিয়ার বদরখালী হয়ে মহেশখালী ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর গাড়িবহরে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ছিল। এই সফরের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
এই ঘটনা কক্সবাজার এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দুর্ঘটনার পর গাড়ি আটকে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যদিও পুলিশ দাবি করেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিশুটির মৃত্যু পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে।
