রংপুর-৪ আসনে নির্বাচন-পরবর্তী হামলার অভিযোগ, আখতার হোসেনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। রোববার দুপুরে তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার বালারঘাট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
হামলার ঘটনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীকে দায়ী
আখতার হোসেন হামলার ঘটনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, 'আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ, ভরসার কারণেই এই হারাগাছ অনিরাপদ হয়ে গেছে। বিএনপির হাইকমান্ডের প্রশ্রয়ে ভরসা এই সন্ত্রাস করার সুযোগ পেয়েছে। এই দায় বিএনপিকে নিতে হবে।' তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ বিকেল থেকে ভরসা বাহিনী হারাগাছ এলাকায় এনসিপি ও জামায়াতের কর্মীদের বাড়ি টার্গেট করে হামলা-ভাঙচুর শুরু করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পরিদর্শন ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
আখতার হোসেন রোববার বেলা দেড়টার দিকে কয়েকটি মাইক্রোবাস ও শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নগরের পায়রা চত্বর থেকে হারাগাছের দিকে রওনা দেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভায় এনসিপির দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন, যেখানে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ছিল। পরে তিনি হারাগাছের সারাই বালাহাট পশ্চিমপাড়ায় এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলামের বাড়িতে যান, যেখানে হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেখানে তিনি মনিরুল, তাঁর মা শেফালি বেগম ও স্ত্রী আফরোজার সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ঘুরে দেখেন।
আখতার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে আরও অভিযোগ করেন যে, মনিরুল ইসলাম ছাড়াও এনসিপির হারাগাছের প্রধান সমন্বয়কারী আরাফাত হোসেন, এনসিপির কর্মী রুবায়েত ও জামায়াত কর্মী মোমিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। তিনি বলেন, '১০ দিন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হারাগাছ পুলিশ অথবা রংপুর জেলা ও মহানগরের পুলিশ বা আর্মি কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।'
আইনি ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের দাবি
আখতার হোসেন জানান, তিনি আজ সকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে হারাগাছের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। খুব শিগগির আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। তিনি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এই সময় এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আলমগীর নয়ন, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদসহ স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমদাদুল হক ভরসা মুঠোফোনে বলেন, 'সে (আখতার) যেসব কথাবার্তা বলতেছে, এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। তার অভিযোগের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। একটা সত্যকে আড়াল করার জন্য সে হাজার রকম মিথ্যা কথা বলতেছে।' তিনি আজ দুপুরে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও বলেন, 'আমি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার কারণে পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছি। হারাগাছে কোনো কর্মসূচি বা কার্যক্রম নাই। আমার নাম ব্যবহার করে বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'
নির্বাচন-পরবর্তী আখতারের সফরকে ঘিরে গতকাল শনিবার থেকে হারাগাছে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল বিকেলে হারাগাছ পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে মাইকিং করে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। পরে রমজানে জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হরতাল প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হারাগাছ পৌর বিএনপি।
