নির্বাচনী হামলার অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ঘোষণা
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে একাধিক মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
ববি হাজ্জাজ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হক নিজে উপস্থিত থেকে হামলার নির্দেশ দেন। এসব ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এখনও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগে অনেক চড়াই–উতরাই পেরোতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে। এই হামলাকে আমরা আইন ছাড়া ছাড়ব না। প্রত্যেক আহত কর্মীর বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামুনুল হকের প্রতিবাদ ও পাল্টা অভিযোগ
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ভোটের দিন তাদের সঙ্গে তেমন কোনো সংঘাত হয়নি। একটি কেন্দ্রে গেলে প্রতিপক্ষ তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে সেনাবাহিনী এসে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। মামুনুল হক দাবি করেন, যেসব স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহতদের বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আঘাতে আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামলা দেওয়ার ঘোষণা স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থির করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন এই প্রার্থী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। নির্বাচনী সহিংসতা ও আইনি লড়াইয়ের এই পর্বটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
