সংসদের প্রথম অধিবেশনে যেকোনো সদস্য স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন
প্রথম অধিবেশনে যেকোনো সংসদ সদস্য স্পিকার হতে পারবেন

সংসদের প্রথম অধিবেশনে যেকোনো সদস্য স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের পদ বর্তমানে খালি থাকায় যেকোনো সংসদ সদস্য স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রক্রিয়া

আইনজীবী শিশির মনির তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্যবৃন্দ শপথ গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুসারে ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করবেন।

যেহেতু স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি আছে, সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ ও কার্যপ্রণালী বিধি ৮–১০ মোতাবেক যেকোনো সংসদ সদস্য স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সে অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এই প্রক্রিয়াটি সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইনগত ভিত্তি ও তাৎপর্য

সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিধান রয়েছে, যা কার্যপ্রণালি বিধি ৮-১০ দ্বারা সমর্থিত। এই বিধানগুলি সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন স্পিকার পদটি শূন্য থাকে। প্রথম অধিবেশনে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদ তার নেতৃত্ব নির্বাচন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের আইন প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি মৌলিক পদক্ষেপ।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশিরের এই ব্যাখ্যা সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। এটি নিশ্চিত করে যে সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই সংসদের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী ভিত্তির প্রতিফলন।