দিনাজপুরে প্রটোকল লঙ্ঘন: সংসদ সদস্যের আগে জেলা প্রশাসকের ফুল দেওয়ায় ক্ষোভ
দিনাজপুরে প্রটোকল লঙ্ঘন: এমপির আগে ডিসির ফুল দেওয়া

দিনাজপুরে শহীদ মিনারে প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ: সংসদ সদস্যের আগে জেলা প্রশাসকের ফুল দেওয়া

দিনাজপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শহীদ মিনারে প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিনাজপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে তার আগেই শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন।

প্রটোকল লঙ্ঘনের বিস্তারিত বিবরণ

শুক্রবার রাতে দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ ময়দানের শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে এই ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, জেলা প্রশাসক ফুল দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত থাকলেও তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। মাইকে ঘোষণার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিয়ম সম্পর্কে তাদের অজানা ছিল

শনিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "এটা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। নিয়ম অনুযায়ী, আগে সংসদ সদস্যের ফুল দেওয়া উচিত, তারপর জেলা প্রশাসকের। কিন্তু তারা মাইকে ঘোষণাতেও জেলা প্রশাসকের নাম আগে বলেছে।"

সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ

সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম আরও উল্লেখ করেন, আগামী রবিবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে তিনি এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাইবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একজন সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই জেলা প্রশাসকের নিচে নন। তাদের মন্তব্য যে জেলা প্রশাসক আগে ফুল দেবেন, তা অগ্রহণযোগ্য। আমি এটাকে নিন্দা জানাই এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।"

জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সরকারি মোবাইল নম্বরে এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ম্যাসেজেরও উত্তর দেননি।

জেলা প্রশাসকের অন্যান্য বক্তব্য

এর আগে, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি জেলার প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন:

  • ভারী শিল্প-কলকারখানার অভাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে না ওঠা
  • দুই-তিন লেন বিশিষ্ট সড়কের অভাব ও সড়কের বেহাল অবস্থা
  • সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের বিস্তার এবং যুবকদের ক্ষতি
  • চালকলগুলো বন্ধের উপক্রম

তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, "দিনাজপুরকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগ বান্ধব জেলা গড়ে তুলতে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। জনগণের সেবক হিসেবে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। দিনাজপুরে কোনও চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না।"

এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং প্রটোকল লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।