বগুড়ায় চাঁদাবাজির মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেফতার
বগুড়া জেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার ও মামলার বিবরণ
বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এই গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিজানুর রহমান সাগর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় করা একটি মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ আগস্ট রাতে রুবেল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে চা পান করছিলেন। এ সময় এনসিপি নেতা মিজানুর রহমান সাগরসহ ৪-৫ জন মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন। তারা জোরপূর্বক রুবেল প্রামানিককে তুলে কলেজের অডিটোরিয়ামের পেছনে নিয়ে যান।
সেখানে তাকে মারধর করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। রুবেল প্রামানিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তার বিকাশ হিসাব থেকে ২৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং কাছে থাকা আরও ২২ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে রুবেল বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও এনসিপির প্রতিক্রিয়া
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরের সামনে থেকে মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা এনসিপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এস এম এ মাহমুদ জানান, মিজানুর রহমান সাগর তার সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব পদে আছেন। কেন্দ্রে তার কোনও পদ নেই। সাগরের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলা হয়েছে। আর তিনি কমিটিতে আছেন ১ ডিসেম্বর থেকে। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, "শিগগিরই সাগরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে।
