ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ মিনারে বাধা নিয়ে রুমিন ফারহানার সতর্কবার্তা
শহীদ মিনারে বাধা নিয়ে রুমিন ফারহানার সতর্কবার্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ মিনারে বাধা নিয়ে রুমিন ফারহানার সতর্কবার্তা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে প্রতিফলিত না হওয়ার বিষয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধার প্রতিক্রিয়া

রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, গতকাল একুশের প্রথম প্রহরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছে, তা অন্যান্য আসনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘পুষ্পস্তবক অর্পণে বাধা দেওয়ার বিষয়টি বিএনপি যদি উপেক্ষা করতে চায়, তাহলে তাদের জন্য ভালো হবে না। এটা আমার পরিষ্কার বার্তা।’ এর আগে, শুক্রবার গভীর রাতে সরাইলের শহীদ মিনারে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেননি, যা এই বক্তব্যের পটভূমি তৈরি করে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে উদ্বেগ

আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সবকিছুতেই রাজনীতি করি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা তাদের মতো করে ইতিহাস রচনা করে। ফলে ইতিহাসে আমরা হয় দেবতা, নয়তো ইবলিশ—এই দুইয়ের মাঝখানে সাধারণ মানুষকে খুঁজে পাই না।’ তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, পাঠ্যপুস্তকে ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। সরকার পরিবর্তন হলেও এই ইতিহাস কোথাও যথাযথভাবে লেখা হয়নি, যা জাতি হিসেবে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন:

  • আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী
  • আশুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া
  • আশুগঞ্জ উপজেলা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম
  • সরকারি হাজি আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির
  • উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান প্রমুখ

এই সভাটি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক সত্যের প্রতিফলন নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। রুমিন ফারহানার মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।