বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর বক্তব্য: বাংলা ভাষার সঙ্গে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না
বাংলা ভাষার সঙ্গে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর স্পষ্ট বক্তব্য: বাংলা ভাষার সঙ্গে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' অচল

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখে বলেছেন, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা হিসেবে ধারণ করতে হয়, তাহলে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' বা 'ইনকিলাব মঞ্চ' এর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, এই ধরনের স্লোগান বা আন্দোলন বাংলা ভাষার মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

মন্ত্রীর সাহসী অবস্থান

টুকু বলেন, 'এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।' তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি জাতীয় স্বার্থে সত্য কথা বলতে দ্বিধা করেন না, এমনকি সমালোচনার মুখেও দাঁড়িয়ে থাকেন।

অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকু তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ

টুকু তার বক্তৃতায় ব্রিটিশ শাসনামলের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'ব্রিটিশরা এ দেশে অনেক ক্ষতি করে গেছে। শোষণ করার জন্য আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে চেপে ধরা হয়েছিল। ৫২ সালে যারা জীবন দিয়েছে তারাই ভাষা রক্ষার বীজ বপন করে গিয়েছিল।' তিনি তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করে দেন, তাদের ভাবতে হবে, নইলে এক্সট্রিম রাইট চলে যাবে।

জাতীয়তাবোধ গঠনের আহ্বান

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা না করায় আমাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে, অন্য কেউ এসে গড়ে দেবে না।' এই কথার মাধ্যমে তিনি দেশপ্রেম ও স্বাধীন চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন। এই বিস্তৃত উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর এই বক্তব্য বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও জাতীয় ঐক্য গঠনে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।