শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো ফুল দিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
শহীদ মিনারে প্রথমবার ফুল দিলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের ঐতিহাসিক শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কেননা এটিই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরের পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হলো। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই তিনি শহীদ মিনারে উপস্থিত হন।

নেতাদের উপস্থিতি ও মোনাজাত

এ সময় তার সঙ্গে এনসিপির নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন, যা ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে করা হয়। পরে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও জবাব

জামায়াত কখনো ফুল দিতে শহীদ মিনারে আসেনি, এবার কী মনে করে আসলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে তাই আমি এসেছি।’ এখনও কি জামায়াতে ইসলামী এটাকে নাজায়েজ মনে করেন—এমন প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এমন একটা পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন আপনি কেন করছেন, এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

আজিমপুর কবরস্থানে যাত্রা ও ভাষা শহীদদের স্মরণ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। আজিমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মোনাজাত করা হয়েছে।’

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে মন্তব্য

নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন যে, ভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের মানুষ এখনো প্রকৃত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত কায়েমি স্বার্থবাদী সরকারগুলো জনগণের অধিকার গায়ের জোরে চাপায় দিতে চেয়েছিল বলেই বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহের ফলে আমরা ভাষার অধিকার পেয়েছি। তবে মানবিক সমাজ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন।