শহীদ মিনারে হট্টগোলের পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টারের সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দিবাগত রাতে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাঁর সঙ্গে কয়েক শ সমর্থক ছিলেন, যাঁদের কেউ কেউ শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ঠিক তখনই শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান তিনি। একই সময়ে ফুল দিতে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার।
এই অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনারের আশপাশে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন, এমনকি শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
অবরোধ ও পুলিশি ব্যবস্থা
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার কয়েক শ সমর্থক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা হাতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং আনোয়ার হোসেন মাস্টারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টার দিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা সরে দাঁড়ান। তবে মহাসড়কে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিএনপি ও পুলিশের বক্তব্য
সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি কী।’
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাত দেড়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক পটভূমি
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি দলীয় পদ হারান।
