শেরপুর জেলা ৩০ বছর পর পতাকা হারাল, নতুন সরকারে কোনো মন্ত্রী নেই
শেরপুর জেলা ৩০ বছর পর পতাকা হারাল

শেরপুর জেলা ৩০ বছর পর পতাকা হারাল, নতুন সরকারে কোনো মন্ত্রী নেই

শেরপুর জেলা টানা ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় পতাকা বহনকারী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা ভিআইপি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলেও, এই জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের কোনো সদস্যই মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার পদ পাননি।

নির্বাচনী ফলাফল ও পতাকা হারানোর পটভূমি

শেরপুর জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ২৮ জানুয়ারি জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। অপর দুটি আসনে, শেরপুর-১ (সদর) থেকে জামায়াতের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এবং শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) থেকে বিএনপির ফাহিম চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে, নতুন সরকার গঠনের পর এই জেলা থেকে কোনো সংসদ-সদস্য মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগ না পাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা বিরাজ করছে।

৩০ বছরের ঐতিহ্য ভঙ্গ

১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ বছর শেরপুরের সংসদ সদস্যরা উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী, হুইপ বা সংসদীয় উপনেতার পদ পেয়ে আসছিলেন। উদাহরণস্বরূপ:

  • ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
  • ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে শেরপুর-২ আসন থেকে জাহেদ আলী চৌধুরী জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পান।
  • ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রী বা সংসদীয় উপনেতার পদে দায়িত্ব পালন করেন।
  • শেরপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের আতিউর রহমান আতিক হুইপের দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

শেরপুর জেলার মন্ত্রিত্বের ইতিহাস আরও পেছনে চলে যায়। ১৯৭৯ সালে বিএনপির খন্দকার আব্দুল হামিদ যুব উন্নয়ন মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য ও শ্রম মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সরকারের সময় শেরপুর-২ আসনের অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের পর এবারই প্রথম শেরপুর জেলা মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার পদ থেকে বঞ্চিত হলো, যা জেলাবাসীর জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।