সাভারে চাঁদা না পেয়ে ২০০ ডাব নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় ফুটপাতের দুই ডাব বিক্রেতাকে গালিগালাজ করে প্রায় ২০০টি ডাব নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ডাব বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে তারা রেডিও কলোনি ফুটওভার ব্রিজের নিচে ডাব বিক্রি করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে আরমান হোসেন বাবুর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল সেখানে চাঁদা দাবি করতে আসে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা গালিগালাজ শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত চৌকিসহ প্রায় ২০০টি ডাব জোর করে নিয়ে যায়।
তারা আরও অভিযোগ করেন যে, রেডিও কলোনি এলাকার ফুটপাতের চা দোকান, মাছ, সবজি ও ডাব বিক্রেতাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে নিয়মিত ২০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। জাতীয় নির্বাচনের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা আরমান হোসেন বাবু এই চাঁদাবাজির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।
আরমান হোসেন বাবুর বক্তব্য ও অস্বীকার
অভিযোগের জবাবে আরমান হোসেন বাবু ডাব ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "বৃহস্পতিবার দুপুরে আমি রেডিও কলোনি স্ট্যান্ড থেকে পেট্রলপাম্পের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় ডাব বিক্রেতা মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে চৌকির উপর ডাব বিক্রি করছিল, যার ফলে একটি লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে শুধু বাগবিতণ্ডা হয়েছে মাত্র। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অভিযোগ
ফুটপাতের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, আরমান হোসেন বাবু নিজেকে সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে শুধু চাঁদাবাজিই নয়, মাদক ব্যবসার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান।
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, "যেহেতু আরমান হোসেন বাবু ছাত্রদলের সাবেক নেতা, তাই আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। তবে আমরা ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।"
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করছেন যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এই ধরনের চাঁদাবাজি ও নির্যাতন বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।
