বগুড়ার নন্দীগ্রামে তারাবির নামাজ শেষে ছাত্রদল কর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত
নন্দীগ্রামে ছাত্রদল কর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে তারাবির নামাজ শেষে ছাত্রদল কর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তারাবির নামাজ শেষে মসজিদের সামনে ছাত্রদলের এক কর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মিলন রহমান, যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সী ছিলেন এবং বুড়ইল উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মিলন রহমান স্থানীয় ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে ফুটবল খেলা নিয়ে নন্দীগ্রামের বীরপলি গ্রামের শামিম নামে এক যুবকের সঙ্গে বুড়ইল গ্রামের নবীর শেখের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার শামিম বীরপলি গ্রাম থেকে বুড়ইল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আসার পথে নবীর শেখ তাঁকে মারধর করেন। এরপর শামিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বুড়ইল গ্রামে এসে নবীর শেখকে খুঁজতে থাকেন। নবীরকে না পেয়ে তাঁরা তাঁর পক্ষের ছাত্রদল কর্মী মিলন রহমানকে সামনে পান।

মিলন তখন তারাবির নামাজ শেষে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় শামিম ও তাঁর বাবা শাহীনসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে মিলনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মিলনকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'বুড়ইল গ্রামে আমার বাড়ি। নিহত ছাত্রদল কর্মী মিলন আমার প্রতিবেশী। মাসখানেক আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বীরপলি গ্রামের শামীমের সঙ্গে বুড়ইল গ্রামের নবীরের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার শামীম বুড়ইল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে আসার পথে নবীর তাঁকে মারধর করেন। এর প্রতিশোধ নিতে শামীম এবং তাঁর পরিবারের লোকজন রাতে বুড়ইল গ্রামে এসে নবীরকে খুঁজতে থাকেন। নবীরকে না পেয়ে মসজিদের সামনে মিলনকে পেয়ে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছাত্রদল কর্মী মিলনকে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।'

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মাসখানেক আগে ফুটবল খেলা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় এই ঘটনায় শোকাহত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি ও আইনের শাসনের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।