প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই রেল ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজিব আহসান
প্রথমবার এমপি হয়েই প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজিব আহসান

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন এবং সরাসরি রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেছেন। নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদে তার এই নিয়োগ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনী জয় ও শপথগ্রহণ

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজিব আহসান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান, যা প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধান সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।

ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পটভূমি

রাজিব আহসান বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকার বদরপুরের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান ও ফরিদা বেগম দম্পতির সন্তান। তার রাজনৈতিক যাত্রা ছাত্রদলের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে তিনি ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে আসীন হন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়, যা তার দলীয় ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে।

তবে তার রাজনৈতিক জীবনে চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। গত আট বছরে তার বিরুদ্ধে মোট ৮২টি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তার সংগ্রামী চরিত্রকে তুলে ধরে।

স্থানীয় উদযাপন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন। এই উদযাপন তার প্রতি স্থানীয় সমর্থনের প্রতিফলন ঘটায়। রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাজিব আহসানের উপর এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায়, যা দেশের পরিবহন খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

তার এই দ্রুত উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী পদ লাভের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে তার কর্মকাণ্ড দেশের উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখে, তা এখন দেখার বিষয়।