বিএনপি সরকার গঠনের পর পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদলের গুঞ্জন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। বিশেষ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদে কে কে আসতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে। পুলিশসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
আইজিপি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা
আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫তম ব্যাচের হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর র্যাবের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শহিদুর রহমানকে মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, এবং আগামী ১৫ মার্চ তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এছাড়াও, আইজিপি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠানের নামও আলোচনায় রয়েছে, যিনি ২০২২ সালে অবসরে গেছেন।
ডিএমপি কমিশনার পদে আলোচনা
ডিএমপি কমিশনার পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদের নাম নতুন ডিএমপি কমিশনার পদে আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ চলতি বছরের ২১ নভেম্বর শেষ হবে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা
একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের ফলে পুলিশ, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি সরকারের নতুন নীতিমালা এবং কর্মকাণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হতে পারে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, আইজিপি বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, এবং তাঁর মেয়াদ এখনও প্রায় ৯ মাস বাকি আছে।
সর্বোপরি, এই রদবদলগুলি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের নতুন পদক্ষেপগুলির উপর নজর রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে।
