বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সেলিমা রহমানসহ ৩৬ প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশ করেন।
সেলিমা রহমানের মনোনয়নে বিশেষ গুরুত্ব
ঘোষিত ৩৬ জন মনোনয়নপ্রাপ্তের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের কৃতী সন্তান। সেলিমা রহমান সাবেক বিচারপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ষষ্ঠ সাবেক স্পিকার মরহুম আব্দুল জব্বার খানের মেয়ে হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে সেলিমা রহমানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
রাজনৈতিক উত্তরসূরির দীর্ঘ ভূমিকা
সেলিমা রহমান বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই মনোনয়ন দলীয় অভ্যন্তরে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও সাক্ষাৎকার
এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, মোট এক হাজার পঁচিশটি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও প্রায় নয়শত জন প্রার্থী তাদের ফরম জমা দিয়েছিলেন। এই ব্যাপক প্রতিযোগিতার মধ্য থেকে চূড়ান্ত ৩৬ জন প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।
বিএনপির এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া দলটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যেখানে নারী নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।



