বিএনপি সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের শপথ নেওয়ার ঘটনায় নতুন মোড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেরিতে আসার কারণে তিনি নিজ দল বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জামায়াতের সঙ্গে শপথ ও দ্রুত প্রস্থান
ইশরাক হোসেন শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেন। মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের ৬৮ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং শপথপত্রে নিজ আসন উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন। তবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ শুরু হতেই ইশরাক হোসেন বেরিয়ে যান, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
এর আগে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকেও বের হতে দেখা যায়, যা এই অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। ইশরাক হোসেনের এই দ্রুত প্রস্থানের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
বিএনপির শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই অনুষ্ঠানে ইশরাক হোসেনের অনুপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল, যা পরে তার জামায়াতের সঙ্গে শপথ নেওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ ও আনুষ্ঠানিকতা
এদিকে, বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন বলে নির্ধারিত ছিল।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজ সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইশরাক হোসেনের শপথ নেওয়ার এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেরিতে আসার কারণে তার এই অবস্থান হয়তো অনিচ্ছাকৃত ছিল, কিন্তু এটি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় একটি অস্বাভাবিক উদাহরণ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে সময়ানুবর্তিতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব আরও বেশি করে উঠে এসেছে।
