সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথগ্রহণ বর্জন করলেন রুমিন ফারহানা ও ইশরাক হোসেন
স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং বিএনপির এমপি ইশরাক হোসেন আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এই ঘটনাটি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দ্বৈত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের বিবরণ
রুমিন ফারহানা আজ সাড়ে বারোটার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একই সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। তবে প্রথম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন, যা তার সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ না করার ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে, বিএনপির এমপি ইশরাক হোসেন জামায়াত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিলেও তিনিও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেননি।
বিএনপির অবস্থান ও ঘোষণা
বিএনপির এমপিরা আজ শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাদা ও নীল রংয়ের দুটি ফরম হাতে নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে।
জামায়াতের ভূমিকা
বিপরীতে, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা আজ সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে উভয় শপথই গ্রহণ করেছেন। এই পার্থক্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক ও ভিন্নমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ এবং এর সদস্যদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
