জামায়াতের সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেন, বিএনপি শপথ নেননি

জামায়াতের নবনির্বাচিতরা শপথ নিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিতরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে জামায়াতের নবনির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পৃথকভাবে এই দুই শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি

আজ বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিতরা। তাঁদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার–১ আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তাঁরা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি। তাই তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথ নেবেন না।

জামায়াতের পূর্ববর্তী অবস্থান

এর আগে আজ সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিতরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তাঁরা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের নবনির্বাচিতরা শপথ নিলেন। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এই শপথ অনুষ্ঠানটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। জামায়াত ও বিএনপির এই ভিন্ন অবস্থান সংসদীয় কার্যক্রমের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিএনপির সিদ্ধান্ত দলটির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।