শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবনে উৎসবের আমেজ, বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের উপস্থিতি
শপথে সংসদ ভবনে উৎসব, বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা

শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় উৎসবের আমেজ

জাতীয় সংসদ ভবনের পুরো এলাকা নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। সংসদ ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে হাজারও লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে উৎসবের আমেজ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও জনসমাগম

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের দু’পাশেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, শুধু মিরপুর রোড খোলা রাখা হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে স্বল্প সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে হাজারও লোকজনের ভিড় জমেছে, যারা প্রধানত নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছেন। বিশেষ করে নতুন সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের পাশাপাশি উৎসুক জনতাও এই ভিড়ে যোগ দিয়েছেন।

বিএনপি কর্মীদের আবেগ ও উৎসাহ

রাজশাহী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের অনুসারী কেশরহাট পৌরসভার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “রাতেই এসেছি। মূলত আজ শপথ, এ কারণে এমপির সঙ্গে আসা।” মশিউর রহমান আরও যোগ করেন, “এটি একটি আসলে উৎসব। নেতার সঙ্গে একটি আত্মীক সম্পর্ক। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি এটি রীতিও বলতে পারেন। দীর্ঘদিন এক পাক্ষিক শাসনের কবল থেকে মুক্তি হয়ে নতুন বাংলাদেশের পথচলা। দীর্ঘদিন পর বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসায় নেতাকর্মীরা আবেগেও এসেছেন।”

জামায়াত কর্মীদের অংশগ্রহণ ও আনন্দ

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদের অনুসারী সেলিম বলেন, “এটি আমাদের কাছে ঈদের আনন্দের মতোন। নেতার সঙ্গে আসলাম, আবার নেতার সঙ্গে যাবো, এটি অন্যরকম আনন্দ।” এদিকে, বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের কর্মীরাও তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, যা এই রাজনৈতিক ঘটনাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

পুরো ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিন পর বিরোধী দলগুলোর ক্ষমতায় আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আশাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংসদ ভবন এলাকার এই জমায়েত শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যাবে।