দেশকে সচল করাই ছিল প্রথম কাজ: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বিদায়ী ভাষণ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অচল দেশকে সচল করাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ও সবচেয়ে কঠিন কাজ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকট ও সরকার গঠন
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, "আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করছি। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দৈত্যের গ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। কিন্তু দেশ তখন সম্পূর্ণ অচল ছিল।"
তিনি উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা দেশ সচল করতে একটি সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার গঠন ও চালানোর জন্য তারা তাকে দায়িত্ব নিতে বলেন। ইউনূস তখন বিদেশে ছিলেন এবং প্রথমে রাজি না হলেও পরে জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা, যা সবচেয়ে কঠিন ছিল। যারা দেশ লুটেপুটে খেত, তারাই দেশের যন্ত্র চালাতো। অভ্যুত্থানের পর তারা পালিয়ে যায় বা আত্মগোপনে চলে যায়। সরকারের ভেতরে যারা রয়ে গিয়েছিল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ একটি মহাসংকট তৈরি করেছিল।"
তিনি আরও যোগ করেন, মৃতদেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসার মাধ্যমে অপরাধীরা চিহ্নিত হতে থাকে। ১৮ মাস পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনী উৎসব ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত
ইউনূস বলেন, "দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য গণভোট হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর ও ঈদের পরিবেশ ছিল, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
