নবনির্বাচিত এমপিদের শপথগ্রহণ: সংসদ ভবনে প্রবেশ শুরু, বিএনপির ১৫ বছর পর প্রত্যাবর্তন
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তারা সকাল ১০টায় শপথকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও সময়সূচি
শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সদস্যরা প্রথমে শপথ নেবেন। এই প্রক্রিয়ায় সকাল ১০টায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন ও তার চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। নির্বাচিত সদস্যদের ভেতরে প্রবেশের সময় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে, যা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বিএনপির ১৫ বছর পর প্রত্যাবর্তন
টানা তিনটি সংসদ, অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর পর বিএনপির নেতারা সংসদ ভবনে প্রবেশ করছেন। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট করার পর, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোট বয়কট করে দলটি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছে, যা তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের হাজারো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের প্রতিনিধি এবং সার্কভুক্ত অন্যান্য ৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধিবৃন্দ।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুলিপি দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মহাপরিচালকরা।
এই ব্যাপক প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
