ফেনীতে নির্বাচনী সহিংসতা: জামায়াত কর্মীর দাড়ি ধরে লাঠিপেটা, স্ত্রীকেও হেনস্তা
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক জামায়াত কর্মীর দাড়ি ধরে লাঠিপেটা ও তার স্ত্রীকে হেনস্তার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় যুবদল কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানিপুর গ্রামে শনিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নুরুল আবছার নামের জামায়াত কর্মী নামাজ শেষে ঘরে প্রবেশ করার পরপরই স্থানীয় যুবদল কর্মী বেলাল হোসেন অতর্কিত হামলা চালায়। বেলাল হোসেন নুরুল আবছারের দাড়ি ধরে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন, এমনকি তার দাড়ি উপড়ে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে।
নুরুল আবছারের স্ত্রী যুগান্তরকে জানান, তিনি স্বামীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে বেলাল হোসেন তাকেও লাঞ্ছিত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় একাধিকবার তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত বেলাল।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির গাজী সালেহ উদ্দিন জানান, তারা এই ঘটনা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। আহত নুরুল আবছারকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার রাতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, জনগণের ওপর কোনো অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে তারা বদ্ধপরিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।
সোনাগাজী সার্কেলের ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জানান, আহত ব্যক্তি ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত বেলাল হোসেনকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।
