রংপুরের বিদ্যালয়ে ধানের শীষ সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধার, উত্তেজনায় ইউএনও পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধানের শীষের সিলযুক্ত ব্যালট পাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে এই ব্যালট উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যালয়ে ব্যালট উদ্ধারের ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী দুটি সিলসহ মোট ছয়টি ব্যালট পেপার দেখতে পায়। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ব্যালট ও সিলগুলো প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার কাছে জমা দেয়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুনকে অবগত করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটায়।
ইউএনওর বিতর্কিত ঘোষণা ও জনতার প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে ইউএনও পপি খাতুন ঘটনাস্থলে এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দুই শিশু শিক্ষার্থীকে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তারা বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ করে লোকজন জড়ো করেছেন। এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যালয় কেন্দ্রে জমায়েত হতে শুরু করেন। তারা যেকোনো মূল্যে শিক্ষক ও শিশু দুজনকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বিক্ষুব্ধ জনতা ইউএনও পপি খাতুনকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঝাড়ু হাতে নারীরাও এই অবরোধে অংশ নেন। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সার্বিক পরিস্থিতির মুখে ইউএনও শিক্ষক ও শিশুদের নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। পরে কঠোর পুলিশি প্রহরায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন, কিন্তু উত্তেজিত জনতা তার গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে দেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
ইউএনও পপি খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, "বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ইউএনওকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
