সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভোট দেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি: আসল ঘটনা জানুন
আবদুল হামিদের ভোট ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি: আসল ঘটনা

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ভোট দেওয়ার ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি: আসল ঘটনা জানুন

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভোট দেওয়ার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তাকে বলতে শোনা যায়, '১৫ বছর পরে ভোট দিলাম। অনেকদিন দিতে পারি নাই; এটা একটা আফসোস ছিল যে, মরবার আগে আর দিতে পারি কিনা।' এই ভিডিওকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল

ফ্যাক্টচেকরিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার ভিডিও। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম নাগরিক টিভির ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধানে '১৫ বছর পর ভোট দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি' শিরোনামে ২০২৪ সালের দৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৭ জানুয়ারি বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আবদুল হামিদ তার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই নাতনিসহ এসে ভোট দেন।

আবদুল হামিদের ভোট দেওয়ার ইতিহাস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুল হামিদ সর্বশেষ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতির শপথ নেন। এই দুই মেয়াদে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভোট দিতে পারেননি।

মূল বিষয়টি কী?

সুতরাং, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট প্রদানের পর দেওয়া বক্তব্যকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সত্য ঘটনাকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে।

ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০২৪ সালের ঘটনা, বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা উচিত যাতে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা যায়।