অন্তর্বর্তী সরকারের সমাপ্তি, আগামীকাল শপথে নতুন সরকার
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে এই ভাষণ প্রদান করেন তিনি। ভাষণ শেষে কার্যালয়ে কর্মরত সকলের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন ড. ইউনূস।
নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়
প্রায় দেড় বছর ধরে দেশ পরিচালনার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, নির্বাচিত সরকারের আগমনকে সামনে রেখেই এই বিদায়ী ভাষণের আয়োজন করা হয়েছিল।
আগামীকালের শপথ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
এরপর বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নতুন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন শেষে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ—সব মিলিয়ে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া সারা দেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নতুন সরকারের কাছে এখন দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব বর্তাবে।
