বঙ্গভবনের ঐতিহ্য ভেঙে প্রথমবার সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান
বঙ্গভবনের দরবার হলের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরকার প্রধান ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনা
মঙ্গলবার দিনটি শুরু হবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বিকাল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া।
আমন্ত্রিত অতিথি ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া বিদেশি অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন— ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার। যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আইন উপদেষ্টা রবিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক আগ্রহ ও বিশেষত্ব
নতুন সরকারের এই শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের শপথ অনুষ্ঠানে একটি বিশেষত্ব থাকছে। জানা গেছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণ শপথের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও একটি পৃথক শপথ গ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে, কারণ এটি প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে সংসদ ভবনে আয়োজিত হচ্ছে।
