নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায়? বিএনপি সরকার গঠনের পর আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায়? বিএনপি সরকারে অনিশ্চয়তা

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায়? বিএনপি সরকার গঠনের পর আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে চলমান আলোচনার পাশাপাশি, বিরোধী দলে থাকবে জামায়াতসহ তাদের জোটের সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর, নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরকারি বাসভবনে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

৭১টি সরকারি বাংলো প্রস্তুতি চলছে

নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমমানের পদমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য মোট ৭১টি সরকারি বাংলো ও বাসা রয়েছে। এসব আবাসন প্রস্তুত করতে তোড়জোড় চললেও, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাননি।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উঠবেন বলে আলোচনা শোনা গেলেও, এটি এখনো নিশ্চিত নয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গণপূর্ত অধিদপ্তর

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী রোববার এক সাক্ষাৎকারে জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসায় উঠবেন তা এখনো তাদের জানানো হয়নি। এই কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংস্কার কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিলে, গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য সরকারের ৭১টি বাংলোর মধ্যে অর্ধেকই বর্তমানে খালি রয়েছে। এই বাসাগুলো বসবাসের উপযোগী, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেই সেগুলো ব্যবহার করা যাবে। বাকি বাসাগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তারা ছাড়লে সেগুলো প্রস্তুত করে নতুন মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়া ও ভাতার ব্যবস্থা

মো. আসাদুজ্জামান আরও ব্যাখ্যা করেন, শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা বাসাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। কোনো কারণে তাদের বাসা বুঝিয়ে দিতে দেরি হলে, তারা পদ অনুযায়ী সরকারি ভাতা পাবেন। সরকারি বাসা বরাদ্দের জন্য তিনটি কমিটি কাজ করে: একটি কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দ দেয়, অন্যগুলো কমকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দায়িত্ব পালন করে।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথের পর সম্ভাব্য মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। নতুন মন্ত্রীদের যথাসময়ে বাসা দেওয়ার বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সতর্ক রয়েছেন বলে তিনি জানান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাসভবন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমমানের ব্যক্তিদের জন্য রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন এলাকা ও গুলশানে সরকারি বাসা রয়েছে। এই বাসাগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে, এবং বরাদ্দ দেয় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এই বাসাগুলোর মধ্যে ২৯ মিন্টো রোডের বাসভবনটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্দিষ্ট। এই বাসায় অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা অবস্থান করেছেন। এবার সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উঠবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের প্রস্থান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ সহকারী বাসা ছেড়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী। তাদের প্রস্থানের মাধ্যমে নতুন সরকারের সদস্যদের জন্য বাসভবন প্রস্তুত করার পথ সুগম হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়া চলাকালীন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর আবাসন বরাদ্দের এই জটিলতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।