ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলোর ব্যাপক ভরাডুবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বামপন্থী দলগুলো মারাত্মক ভরাডুবির সম্মুখীন হয়েছে। দুই জোটে বিভক্ত হয়ে মোট ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এর মধ্যে ১৮০টিতেই তাদের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব আসনে বাম দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার মাত্র ০.৩৬ শতাংশ, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
বিএনপির সঙ্গে জোটে বাম দলগুলোর অবস্থা
নির্বাচনে বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সঙ্গে তিনটি বামঘরানার দল- নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন অংশ নেয়। পরে নাগরিক ঐক্য আলাদাভাবে নির্বাচন করে। এই তিন দলের মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কেবল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জয় পান। অন্যরা কেউ জামানত রক্ষা করতে পারেননি। এসব আসনে দলগুলোর মোট ভোটের হার ছিল মাত্র ০.১৯ শতাংশ, যা তাদের জনসমর্থনের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ফলাফল
বিএনপির বাইরে ১০ বাম দলের জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নিবন্ধিত চারটি দলের প্রতীকে ১৪৭টি আসনে নির্বাচন করে। এদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৬৩ আসনে ০.০৮ শতাংশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩৬ আসনে ০.০৫ শতাংশ, বাসদ (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে ০.০২ শতাংশ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ১৫ আসনে ০.০২ শতাংশ ভোট পায়। সব মিলিয়ে এই জোটের প্রাপ্ত ভোট ০.১৭ শতাংশ, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভাবকে স্পষ্ট করে।
জোটের শীর্ষ নেতাদের হতাশাজনক ফলাফল
জোটের শীর্ষ নেতাদের ফলাফলও ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন নরসিংদী-৪ আসনে পান মাত্র ৮১৭ ভোট, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফি রতন কুমিল্লা-৫ আসনে ১৮৪ ভোট এবং বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসনে পান ৩ হাজার ৯ ভোট। তাদের কেউই জামানত রক্ষা করতে পারেননি, যা তাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ঘাটতি নির্দেশ করে।
ব্যতিক্রমী ঘটনা ও সামগ্রিক বিশ্লেষণ
তবে ব্যতিক্রম ছিলেন বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী। তিনি ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হলেও প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত জামানত রক্ষা করতে পারেননি। জোটের অন্য কোনো প্রার্থী পাঁচ হাজার ভোটও পাননি, যা তাদের নির্বাচনী কৌশলের ব্যর্থতা তুলে ধরে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটভুক্ত বাম দলগুলোর একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি, যা বামপন্থী রাজনীতির বিভাজন ও দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তোলে।
