জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন, যা বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিদেশি অতিথিদের তালিকা ও আমন্ত্রণ
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও অংশ নিতে পারেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এবং শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু আসতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও সরকার গঠন
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে, যেখানে দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। শরিক দলগুলোসহ বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা ২১২, এবং ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। প্রায় দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করছে বিএনপি, যা একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে, এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটি পরিচালনা করতে পারেন। বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে, যা বিএনপির পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
অতিথি তালিকা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি
শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণত প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানেরা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাংবাদিক, কূটনীতিক এবং অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূর্বনির্ধারিত সূচির কারণে অংশ নিতে পারছেন না।
সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রণ কার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি সেভাবে নেওয়া হচ্ছে। আইন উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে শপথ অনুষ্ঠানে প্রথা অনুযায়ী যাঁদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা, সেটাই করা হচ্ছে, এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটি দেখছে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
