দল বদলে বিএনপিতে যোগ দিয়েও নির্বাচনে হেরেছেন যারা
দল বদলে বিএনপিতে যোগ দিয়েও নির্বাচনে হেরেছেন যারা

দল বদলে বিএনপিতে যোগ দিয়েও নির্বাচনে হেরেছেন যারা

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন এবং এক পক্ষ থেকে আরেক পক্ষে যোগদানের মতো ঘটনাগুলো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা।

ছোট দলগুলোর বিপত্তি

২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও অনুযায়ী, জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হয় নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। এই নিয়মে ছোট দলগুলোর জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরাজয়ের আশঙ্কায় তারা তাদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা সংসদে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে তারা দল বিলুপ্ত বা বদল করে বিএনপিতে যোগ দেন। তবুও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি।

যারা হেরেছেন তাদের বিবরণ

সৈয়দ এহসানুল হুদা: ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়লেও তিনি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট, অপরদিকে বিজয়ী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট।

ড. রেদোয়ান আহমেদ: ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন এই সাবেক প্রতিমন্ত্রী। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়লেও তিনি বিএনপির বিদ্রোহী নেতা আতিকুল আলম শাওনের কাছে হেরে যান। ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট।

রাশেদ খান: ২৭ ডিসেম্বর গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে পরাজিত হন। রাশেদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট, আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট।

ফরিদুজ্জামান ফরহাদ: ন্যাশনাল পিপলস পার্টি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে তৃতীয়বারের মতো পরাজিত হন। তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট, বিজয়ী আতাউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট।

রশীদ বিন ওয়াক্কাস: দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে তৃতীয় অবস্থানে থেকে তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৪১৯ ভোট। বিজয়ী গাজী এনামুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮ ভোট।

দলবদলে সফল যারা

কিছু নেতা দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম বিএলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ড. রেজা কিবরিয়া বিএনপিতে যোগ দিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে জয় পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা-১৩ আসনে বিজয়ী হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলবদলের এই প্রবণতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই বলা কঠিন।