সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশুর জামানত হার, ভোটে ব্যাপক পতন
সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির আশু জামানত হারলেন

সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশুর জামানত হার, ভোটে ব্যাপক পতন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশরাফুজ্জামান আশু জামানত হারিয়েছেন। লাঙল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ২৭৮ ভোট, যা জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে অনেক কম।

ভোটের হিসাব ও ফলাফল

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিটে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৪ ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৩টি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী জামানত রক্ষায় মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পাওয়া বাধ্যতামূলক। সে হিসাবে প্রয়োজন ছিল ৪৭ হাজার ৭৩২ ভোট, যা আশু পূরণ করতে পারেননি।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের ফলাফল

ফলাফলে দেখা যায়, ১৮১টি কেন্দ্রের গণনা শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল খালেক ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৩ ভোট।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনা

প্রসঙ্গত, একই আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আশরাফুজ্জামান আশু ৮৮ হাজার ৩৫৭ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তৎকালীন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ঈগল প্রতীকে পেয়েছিলেন ২৭ হাজার ৪৪৭ ভোট। দুই বছরের ব্যবধানে তার ভোট কমেছে ৮৪ হাজারেরও বেশি, যা একটি উল্লেখযোগ্য পতন নির্দেশ করে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান

এদিকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৬০৮। এর মধ্যে ভোট পড়েছিল এক লাখ ৩০ হাজার ২০৩টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৩২ ভাগ। এই নির্বাচনে সদর উপজেলার সঙ্গে দেবহাটা উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে, যা ভোটার সংখ্যা ও ভোটের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন এনেছে।