খুলনায় দাঁড়িপাল্লা সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা
খুলনা-৫ আসনের ফুলতলা উপজেলার আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে শোকর আকুঞ্জির একটি লাকড়ি রাখার ঘর পুড়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
শোকর আকুঞ্জির অভিযোগ, তিনি দাঁড়িপাল্লার সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকেরা এলাকায় দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁরাই এই আগুন দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতে আগুন দেখতে পেয়ে ছুটে যান এবং সবাই মিলে পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জামায়াত নেতাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি
খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ (টিটো) বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে ধানের শীষ কম ভোট পাওয়ায় এবং বিজয়ী ঘোষণার পর থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লোকেরা দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁরাই এ আগুন দিয়েছেন। শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও ইউনিট সভাপতি এবং ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
নেতাদের পরিদর্শন ও পুলিশের তদন্ত
ওই ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকিরসহ দলীয় নেতারা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম জানান, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা শনাক্ত করা যায়নি। একটি লাকড়ি রাখার ঘরে ৩–৪ মণ কাঠ পুড়ে গেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। সাধারণ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সিআইডি আলামত সংগ্রহ করেছে। মামলা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
