মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের জয়: রবিউল ইসলাম নয়নের ভূমিকা ও পটভূমি
মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের জয়: রবিউল ইসলাম নয়নের ভূমিকা

মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের জয়: রবিউল ইসলাম নয়নের অগ্রণী ভূমিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ (শালিখা-মোহাম্মদপুর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি ১,৪৭,৮৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুরতারশেদ মোল্লা পেয়েছেন ১,১৭,০১৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

জানা গেছে, এই আসনে মনোনয়নের জন্য আরও দুজন শক্ত প্রার্থী ছিলেন: সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। দল বয়স ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে নিতাই রায় চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়। রবিউল ইসলাম নয়ন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও কাজী সালিমুল হক কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং রাজনীতি থেকে অবসর নেন।

রবিউল ইসলাম নয়নের ত্রাতা ভূমিকা

স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নিতাই রায় চৌধুরীর মনোনয়নে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই সংকটময় মুহূর্তে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে লেগে পড়েন। গ্রুপিংয়ে জর্জরিত মাগুরা-২ আসনের নেতাকর্মীদের এক সুতোয় গাঁথতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেন এবং সফল হন।

স্থানীয় নেতাদের মূল্যায়ন

শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মিল্টন মুন্সী বলেন, "রবিউল ইসলাম নয়ন উদ্যোগ না নিলে নিতাই রায় চৌধুরী জয়লাভ করতে পারতেন না। তিনি সব গ্রুপকে একত্রে এনেছিলেন।" কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন যোগ করেন, "নয়ন না থাকলে জয় কঠিন হতো। তিনি নেতাকর্মীদের ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে বলেছেন।" মহাম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম মিয়া সাবু উল্লেখ করেন, "নয়ন প্রায় জোর করে আমাদের দিয়ে নিতাই বাবুর পক্ষে কাজ করিয়ে নিয়েছেন।"

নয়নের প্রতিক্রিয়া ও দলীয় আনুগত্য

রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, "আমি দল ও নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ পালন করেছি। আমার কাছে দল আগে। আমি কথা দিয়েছিলাম মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করব এবং আমি আমার কথা রেখেছি।" তবে তিনি জানান, জয়ী হওয়ার পর নিতাই রায় চৌধুরী তার সাথে যোগাযোগ করেননি, এমনকি ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এই ঘটনা মাগুরা-২ আসনের রাজনৈতিক গতিবিধিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে, যেখানে দলীয় ঐক্য ও ত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছে।