তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি-শাহবাজসহ ১৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আমন্ত্রিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে রয়েছেন:
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
- চীনের সরকার প্রধান
- সৌদি আরবের সরকার প্রধান
- তুরস্কের সরকার প্রধান
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার প্রধান
- কাতারের সরকার প্রধান
- মালয়েশিয়ার সরকার প্রধান
- ব্রুনাইয়ের সরকার প্রধান
- শ্রীলঙ্কার সরকার প্রধান
- নেপালের সরকার প্রধান
- মালদ্বীপের সরকার প্রধান
- ভুটানের সরকার প্রধান
এই আমন্ত্রণগুলি বাংলাদেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত বহন করে।
মোদির সম্ভাব্য অনুপস্থিতি ও বিকল্প প্রতিনিধি
এনডিটিভি জানিয়েছে, আমন্ত্রণ পেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন না। কারণ তার আগে থেকেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। তবে মোদির অনুপস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট সিপি রাধাকৃষ্ণ শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্পর্কের ইঙ্গিত
এই শপথ অনুষ্ঠানটি ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নতুন নেতা তারেক রহমান আঞ্চলিক শক্তি যেমন ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ সকল মিত্র দেশের সঙ্গে সমান ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উত্তেজনা সত্ত্বেও, শুক্রবার মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের টেলিফোন আলাপচারিতায় উভয় পক্ষ সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মোদি তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই আলোচনা নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি ও সমর্থন জানানোর প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
