চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতার এনসিপি নেতা আসাদুল্লাহ, স্ত্রীর দাবি ষড়যন্ত্র
চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতার এনসিপি নেতা আসাদুল্লাহ

চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতার এনসিপি নেতা আসাদুল্লাহ

পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের ঘটনা ও পুলিশের বক্তব্য

কামালপুর ফাঁড়ি পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর সুজানগর থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জামালপুর জেলার এক ব্যক্তির চেক ডিজঅনার মামলায় আসাদুল্লাহ এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আসামি ছিলেন। সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খইম উদ্দিন বলেন, 'চেক ডিজঅনারের মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন তিনি। এজন্য গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।'

আসাদুল্লাহর পরিচয় ও নির্বাচনী ভূমিকা

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের আকমল শিকদারের ছেলে। তিনি এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে তিনি গণভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিজ এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচন শেষ হলেও তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্ত্রীর অভিযোগ ও দাবি

আসাদুল্লাহর স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'শুক্রবার গভীর রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পারিবারিক ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক একটি মামলা দেখিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়। এত রাতে বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।' তার মতে, এই গ্রেফতার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

আদালতে সোপর্দ ও আইনি প্রক্রিয়া

গ্রেফতারের পর থানা পুলিশ ওই মামলায় আসাদুল্লাহকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। পুলিশের দাবি, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেফতার কার্যকর করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।