ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিজয়ীদের শপথ ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। একই দিনে বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আক্তার আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ
সোমবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। অপরদিকে, বিকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই দুই অনুষ্ঠানই রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও আসন বণ্টন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় সেদিন। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী:
- বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে।
- ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন।
- ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দু’টি আসন।
এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে:
- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
- গণঅধিকার পরিষদ
- গণসংহতি আন্দোলন
- খেলাফতে মজলিস
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন। এই আসন বণ্টন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গঠন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্দেশ করছে।
শপথ অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শপথ গ্রহণের পর সংসদ সদস্যগণ আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও সরকারি কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিসভার শপথের মাধ্যমে নতুন সরকারের কার্যক্রমও দ্রুতগতি পাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আক্তার আহমেদ শনিবার রাতের প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানান, শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
