শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য: 'কামারুজ্জামানের হত্যার প্রতিশোধে দাঁড়িপাল্লার বিজয়'
জামায়াতের এমপি: কামারুজ্জামানের হত্যার প্রতিশোধে দাঁড়িপাল্লার বিজয়

শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য: 'কামারুজ্জামানের হত্যার প্রতিশোধে দাঁড়িপাল্লার বিজয়'

শেরপুর-১ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম একটি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, শহীদ কামারুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছে। কামারুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি ছিলেন।

নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নওহাটা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচন পরবর্তী নারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'শহীদ কামারুজ্জামানের হত্যাকাণ্ড এটা কেউ মেনে নিতে পারে নাই। শহীদ কামারুজ্জামানের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মানুষ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে আছি বলেই মানুষ আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে, মানুষ পছন্দ করেছে। দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার জন্য এবং এই চেষ্টা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন।'

ভোটের ফলাফল ও প্রতিনিধিত্বের দাবি

রাশেদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি শুধু ১ লাখ ২৭ হাজার ভোটারদের এমপি না, আমি এখন শেরপুর সদর আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের এমপি।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমগ্র আসনের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি তুলে ধরেন।

সভার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

মতবিনিময় সভাটি শেরপুর সদর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সোবাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

  • জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার আমির হাফিজুর রহমান
  • শূরা সদস্য জাকারিয়া আব্দুল বাতেন
  • সদর উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক শফিউল ইসলাম স্বপন
  • বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মতিন
  • পৌর শহর জামায়াতের সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান প্রমুখ

এই সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সংগঠনের শক্তি ও সমর্থনকে প্রতিফলিত করে। রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রসঙ্গে।