নতুন মন্ত্রিসভার শপথের তারিখ নির্ধারণ: আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে হতে পারে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে সর্বোচ্চ আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ। তিনি শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথের আয়োজন করলেও, মূল অনুষ্ঠানটি বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে। শেখ আবদুর রশীদ উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ, সংসদ নেতা নির্বাচন এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধাজনক একটি সময় শপথের জন্য নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা আশা করছি, আগামী তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে শপথ হয়ে যাবে।' তবে, তিনি এও যোগ করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে যদি আগামীকাল বা পরশু শপথের জন্য বলা হয়, সেটারও প্রস্তুতি রয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভার শপথের সঠিক তারিখ জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন জয়লাভ করেছে, যা দলটিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি দুই যুগ পর আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে, এবং ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
বিএনপির মিত্র দলগুলো তিনটি আসন পেয়েছে, ফলে বিএনপি ও তার মিত্ররা মোট ২১২টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে, এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিকরা ৯টি আসন পেয়েছে, অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্ররা মোট ৭৭টি আসন পেয়েছে। ইতিমধ্যে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে।
শপথ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত প্রস্তুতি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ আরও জানিয়েছেন যে, শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি রয়েছে। এটি একটি বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নতুন সরকারের সূচনাকে চিহ্নিত করবে।
নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন এবং শপথের সঠিক তারিখ কবে হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দলটি আগেই ঘোষণা দিয়েছে।
এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠন এবং মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
