নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় খতিব পদ থেকে অব্যাহতি, মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত ধর্মীয় অঙ্গন
কুমিল্লা-১০ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মো. শামছুদ্দোহাকে খতিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে চাকরিচ্যুতির চিঠি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। এই ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মসজিদ কমিটির যুক্তি ও খতিবের প্রতিক্রিয়া
মসজিদ পরিচালনা কমিটির জারি করা অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে মুফতি শামছুদ্দোহা মসজিদের পরিচালনা নীতিমালা এবং সরকারি মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এই কারণেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সিদ্ধান্তটি ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, মুফতি শামছুদ্দোহা তার ফেসবুক পোস্টে দৃঢ়ভাবে লিখেছেন, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া তার ব্যক্তিগত, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার। তিনি নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি নিয়েই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান। নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি তীব্র অভিযোগ তুলেছেন।
দীর্ঘদিনের দায়িত্ব ও পূর্বের ঘটনার প্রসঙ্গ
জানা যায়, মুফতি শামছুদ্দোহা প্রায় এক যুগ ধরে ঢাকার ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণেও পূর্বে তাকে এবং আরিফ বিন হাবিব নামে আরেক আলেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
মসজিদে প্রবেশে বাধা ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া আরেকটি পোস্টে মুফতি শামছুদ্দোহা দাবি করেন, অব্যাহতির চিঠি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পর তিনি জুমা পড়াতে গেলে তাকে সরাসরি বাধা দেওয়া হয় এবং মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি কোনো সাড়া পাননি বলে উল্লেখ করেন।
এই অবস্থায় তিনি মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক মহল থেকে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কমিটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই
এই ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হোসেন সোহরাবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে কমিটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা ঘটনাটিকে আরও জটিল ও বিতর্কিত করে তুলছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়ে এই ঘটনা দেশব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন ধর্মীয় নেতার রাজনৈতিক অধিকার কতটুকু এবং তা কীভাবে প্রতিষ্ঠানের নিয়মের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। মুফতি শামছুদ্দোহার আইনি পদক্ষেপ এবং মসজিদ কমিটির ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তই এখন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
