নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত শপথ: সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে দায়িত্ব
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা দুইটি পৃথক বিষয়ে শপথ গ্রহণ করবেন। একটি হবে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
সংস্কারের পক্ষে গণরায় ও জুলাই সনদের স্বীকৃতি
আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে সংস্কারের পক্ষে একটি স্পষ্ট গণরায় এসেছে, যা মূলত জুলাই সনদের জন্য একটি ব্যাপক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে, গত ষোল বছরের অনাচার ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এই গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সত্যিকারের আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার থাকে, তাহলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা ও ঐক্যের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান
তিনি আরও যোগ করেন যে, সকলের উচিত হবে আলাপ-আলোচনা ও রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রেখে এই সনদ বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হওয়া। একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক নাগরিক শুধুমাত্র গণভোটে অংশগ্রহণ করেছেন, যার ফলে সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে প্রায় এক শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে। এই বিষয়টি সংস্কারের প্রতি জনগণের গভীর আগ্রহ ও সমর্থনেরই প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরত না যাওয়ার জনআকাঙ্ক্ষা
আলী রীয়াজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন আর পুরোনো ও অকার্যকর ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চান না। এই কারণেই গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট জয়লাভ করেছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উপর দায়িত্ব বর্তায়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দলগুলো তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করবে এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
শপথ পাঠ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠান সম্ভবত ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দ্বৈত শপথ প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা সংবিধান সংস্কার ও সংসদীয় গণতন্ত্রকে একসাথে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা প্রকাশ করে। আলী রীয়াজের এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
