নওগাঁয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০ প্রার্থীর জামানত হারানোর চিত্র
নওগাঁ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২০ জন প্রার্থীই তাদের জামানত হারাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফলের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
আসনভিত্তিক জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকা
নওগাঁর প্রতিটি আসনে জামানত হারানো প্রার্থীদের সংখ্যা ও অবস্থান পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। নওগাঁ-১ আসনে তিনজন, নওগাঁ-২ আসনে একজন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয়জন, নওগাঁ-৪ আসনে চারজন, নওগাঁ-৫ আসনে তিনজন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-১ আসনের বিস্তারিত ফলাফল
নওগাঁ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় আকবর আলী (লাঙল), মো. আ. হক শাহ (হাতপাখা) এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছালেক চৌধুরী (স্বতন্ত্র) জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-২ আসনের পরিসংখ্যান
নওগাঁ-২ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামসুজ্জোহা খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি) জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-৩ আসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী
নওগাঁ-৩ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. ফজলে হুদা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬৭। সেই হিসেবে মাসুদ রানা (লাঙল), কালিপদ সরকার (মই), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন), নাসির বিন আছগর (হাতপাখা), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (কলস) ও সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নওগাঁ-৪ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ আসনে একরামুল বারী টিপু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রাকিব ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮। এ আসন থেকে আলতাফ হোসেন (লাঙল), সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা), ডা. এসএম ফজলুর রহমান (কাস্তে) এবং আরফানা বেগম (কলস) জামানত হারাবেন।
নওগাঁ-৫ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ
নওগাঁ-৫ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭। ফলে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), আব্দুর রহমান (হাতপাখা), আনোয়ার হোসেন (লাঙল) জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ-৬ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর জামানত হারানো
নওগাঁ-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ এবং প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩। এ আসন থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল), রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারাবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নওগাঁ জেলায় ব্যাপক সংখ্যক প্রার্থী তাদের জামানত হারানোর মাধ্যমে নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।
