মসজিদের মিম্বর থেকে সংসদের পথে, ইতিহাস গড়লেন মুফতি আবুল হাসান
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান আল হাছিব তাপাদার বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এই বিজয় তাকে মসজিদের মিম্বর থেকে সরাসরি সংসদ ভবনে পৌঁছে দিয়েছে, যা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোটের ফলাফল
নির্বাচনে মুফতি আবুল হাসানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি খেজুরগাছ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন), যিনি ফুটবল প্রতীকে ৫৬ হাজার ৩৬৯ ভোট পেয়েছেন। ভোটের এই ব্যবধান মুফতি আবুল হাসানের জয়কে আরও সুদৃঢ় করেছে।
মুফতি আবুল হাসানের পেশাগত ও সামাজিক ভূমিকা
মুফতি আবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি জকিগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া লামারগ্রাম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। একজন ইসলামী বক্তা হিসেবে সিলেটজুড়ে তার ব্যাপক সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষণীয়।
বিজয়ের পর মুফতি আবুল হাসানের বক্তব্য
বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর মুফতি আবুল হাসান বলেন, "আল্লাহর রাসুল মিম্বর থেকে দেশ পরিচালনা করেছেন। সেই অনুসরণে আমি মসজিদের মিম্বর থেকে সংসদ ভবনে উঠে দেশের ও মিল্লাতের খিদমতে কাজ চালাবেন।" তিনি আরও জানান, জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষকে উন্নয়নের পথে নিয়ে আসার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার এই প্রতিশ্রুতি এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং ধর্মীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের একটি মাইলফলক। মুফতি আবুল হাসানের বিজয় স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে তার বিজয় এলাকার উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
