ঢাকা-৭ আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ, জামায়াতের প্রার্থী পুনর্গণনার দাবি
ঢাকা-৭ আসনে ভোট কারচুপি অভিযোগ, পুনর্গণনার দাবি

ঢাকা-৭ আসনে ভোট গণনায় কারচুপির তীব্র অভিযোগ

ঢাকা-৭ আসনের ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা ব্যালট পুনর্গণনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

গণনায় অনিয়মের নানা দিক

এনায়াত উল্লা বলেন, ভোট গণনার সময় ধানের শীষ প্রতীকের অনেক বান্ডেলে ১০০টি ব্যালট পেপার না দিয়েও সেগুলোকে ১০০টি হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এছাড়া, দাঁড়িপাল্লার পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তারপর রেজাল্ট শিট তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দাঁড়িপাল্লার এজেন্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে অনেক পোলিং এজেন্টকে রেজাল্ট শিটের মূল কপি সরবরাহ করা হয়নি।

ভোট গণনার মাঝামাঝি সময়ে এসে ম্যানিপুলেশন ও রিগিংয়ের উদ্দেশ্যে গণনাকে অহেতুক দেরি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কাউন্টার পার্টে এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

আপত্তি ও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা

প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের এসব অনিয়ম তুলে ধরে গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আপত্তি জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এনায়াত উল্লা। তিনি বলেন, 'সার্বিকভাবে আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের রায়ের সঠিক প্রতিফলিত হয়নি। ভোট পুনর্গণনা হলে এসব অনিয়মের সত্যতা প্রকাশিত হবে ইনশা আল্লাহ। সঠিক ভোটসংখ্যা জানা যাবে।'

তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। বিভাগীয় নির্বাচন কমিশনে সমাধান না পেলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে যাওয়ারও ঘোষণা দেন এই প্রার্থী।

ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. এনায়াত উল্লা অভিযোগ করেন যে গণনার সময় 'ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং' করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'গণনার সময় আমাদের প্রথম দিকের রেজাল্টগুলো সুন্দরভাবে আসছিল। হঠাৎ করে দেখা গেল, এক-দুই ঘণ্টা রেজাল্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল, প্রচার স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। অদ্যবধি পুনরায় আমাদের রেজাল্ট জানানো হয়নি।'

তিনি আরও যোগ করেন, আজ হঠাৎ করে রেজাল্ট শিট তৈরি করে বিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সন্দেহের কারণে গতকাল রাতেই তারা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এনায়াত উল্লা বলেন, প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রশাসন সঠিকভাবে সহযোগিতা করতে পারেননি বা ভয়ে পিছিয়ে গেছেন। তিনি দাবি করেন, ভোট চলাকালে তার ৪০-৫০ জন এজেন্ট ছিলেন না, তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ এজেন্টবিহীন ভোট হয়েছে।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।