ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার স্বার্থই প্রাধান্য পাবে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংসদে তার অবস্থান একজন স্বতন্ত্র সদস্যের মতোই থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার এলাকার স্বার্থ, আমার মানুষের স্বার্থ সবার আগে।’ শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের কাছে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা প্রকাশ করেন।
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান
দলগতভাবে বিএনপি সংসদে যাওয়ার প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের যেমন অবস্থান থাকে, আমার অবস্থানও তেমনি থাকবে। আমি কখনও কোনও অন্যায়কে অন্যায় দেখে চুপ থাকিনি।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিতে তার ফিরে যাওয়ার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না, তবে ‘আগে আমন্ত্রণ জানাক, তখন দেখা যাবে’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার দল তো আমাকে বহিষ্কার করে দিয়েছে। আমার দল বলতে কিছু নেই, এটা তারেক রহমান সাহেবের দল।’ রুমিন ফারহানা বিএনপির অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, দলটি কীভাবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো কাজে জড়িত ছিল, তা তিনি সমর্থন করতে পারেন না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে রুমিন ফারহানা তীব্র অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের কলঙ্কের ইতিহাস ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে।’ তবে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো, তাহলে এই আসনে বিএনপি যথেষ্ট কারচুপির চেষ্টা করেছে।’
তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, বিএনপির স্থানীয় নেতারা ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম করেছে, ভোট ছাপিয়েছে এবং ফলাফল আটকে রেখেছে। রুমিন ফারহানা নিজে সরাইল উচালিয়া পাড়ায় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রে ঢুকে পাঁচবারের মতো ফল গণনা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
জয়ের আনন্দ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচনে জয়লাভের পর রুমিন ফারহানা নেতাকর্মীদের জয়ের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমার এই জয় আমার নির্বাচনি আসনের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।’ তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকতে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে অনুরোধ করেন, যাতে সরাইল-আশুগঞ্জ একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করবো, প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে তার শপথ অনুযায়ী যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পালন করবেন।’ বিরোধী দলের ভবিষ্যৎ গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে কাউকে তো থাকতে হবে। সেটা কীভাবে হবে, সেটিও একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাক সময় বলবে।’
উপসংহার
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে কাজ করবেন এবং তার এলাকার উন্নয়ন ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক জটিল থাকলেও, তিনি রাজনৈতিক সততা ও নীতির ওপর জোর দিয়ে চলেছেন। ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
