নরসিংদী-২ আসনে পরাজয়ের পর জোটভুক্ত দলের বিরুদ্ধে 'গাদ্দারি' অভিযোগ
নরসিংদী-২ আসনে জোটভুক্ত দলের 'গাদ্দারি' অভিযোগ

নরসিংদী-২ আসনে পরাজয়ের পর জোটভুক্ত দলের বিরুদ্ধে 'গাদ্দারি' অভিযোগ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসনে পরাজয়ের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার তুষার জোটভুক্ত শরিক দলের বিরুদ্ধে 'গাদ্দারি' অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।

ভোটের ফলাফল ও অভিযোগের বিবরণ

সারোয়ার তুষারের পোস্টে নরসিংদী-২ আসনে ধানের শীষ ৫৭,৬৯৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৩৬,৬৬৯ ভোট এবং শাপলা কলি ১৪,৫৬৭ ভোট পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তিনি লিখেছেন, "নরসিংদী-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী জোটের বিরুদ্ধে গাদ্দারি না করলে, ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা না থাকলে এবং জামায়াতের তৃণমূল জোটের পক্ষে অবিভক্তভাবে পূর্ণ সহযোগিতাসহ কাজ করতে পারলে ১১ দলীয় জোট অন্তত ১০-১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করত।"

তিনি আরও বলেন, জোটের ভোট ভাগ হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান ৬৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। সারোয়ার তুষার দাবি করেন, "ভোটাররা যখন দেখেছে পলাশে জোট ফাংশন করছে না, আমাদের ভোটাররাও তখন ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।" এছাড়া, দিনভর কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের নিষ্ক্রিয়তা ভোটের মাঠকে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াত প্রার্থীর ভূমিকা ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

এনসিপি নেতা গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) নরসিংদী-২ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে, জোটের প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে ওই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমজাদ হোসাইন। সারোয়ার তুষার এ প্রসঙ্গে বলেন, "ইলেকশনটা আমাকে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার বিরুদ্ধে একযোগে করতে হয়েছে। ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা না থাকলে এ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশকে বিস্মিত ও উদ্বেলিত করত।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমজাদের এই গাদ্দারি বাংলাদেশ মনে রাখবে।" এনসিপির এ নেতা পলাশবাসীর হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

নির্বাচনী ফলাফলের সারসংক্ষেপ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান ৯২,৩৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের হিসাব নিম্নরূপ:

  • ধানের শীষ: ৫৭,৬৯৪ ভোট
  • দাঁড়িপাল্লা: ৩৬,৬৬৯ ভোট
  • শাপলা কলি: ১৪,৫৬৭ ভোট

সারোয়ার তুষারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে জোটের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়হীনতা এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জোটভুক্ত দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।